দ্বিতীয় পৃথিবী
লিখেছেন: বিপ্লব
বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৮ ৩:১৮ অপরাহ্ণ২০ টি মন্তব্য
১৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ২০০৬
আজ মহাসমাবেশ। প্রচন্ড গন্ডগোল হবে নিশ্চিতভাবেই । কলেজে যাব না। সবাই চলে গেলে ভাত খেলাম দুই প্লেট। অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে খাওয়া-দাওয়া এখানে এসে। মনে হয় যেন একটা দানব বাস করছে পেটের ভেতর। দিন-রাত মাল্টোভা খাচ্ছি।
সালাউদ্দিন ভাইয়ের পর দুপুরে ফিরোজ ভাই আসল। তাকে বললাম, ‘মাছটা আপনার জন্য রেখে দিয়েছি।’
‘সাবাশ! কিন্তু দেইখো এই ভালোবাসা যেন আবার দুই মাসের মুরগী পোষা না হয়ে যায়!’
‘ফিরোজ ভাই, আমি এখনও মানতে পারছি না যে “লাভ ইজ সেক্স”।’, শুরু করলাম, ‘দেখেন, আমি যে কারো সাথেই সেক্স করতে পারি, কিন্তু আমি একমাত্র আমার প্রেমিকার সাথেই সারারাত বসে বসে চাঁদ দেখতে পারি, অন্য কারো সাথে না, সেটাই ভালোবাসা।’
ফিরোজ ভাই তখন বললেন, ‘তাহলে তোমাকে গল্পটা বলতেই হয়। এক বুড়ো এক দারুণ চাঁদনী রাতে তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে বলল, “দেখছো, আকাশে কী সোন্দর চাঁদ উঠছে?” দেখো কী প্রবল ভালোবাসা এই বয়সেও!’
হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসা, ভাবলাম আমি।
‘তখন বুড়ি কি বলল জানো? বুড়ি বলল, “হ বোঝছি, তুমি আমারে ভালোবাসবা!’
আমি সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে পড়লাম।
ফিরোজ ভাই তার সম্মোহনী চোখ রাখলেন আমার চোখে, ‘এটাই হচ্ছে ভালোবাসা, বুঝলে?’
আমি অন্য প্রসঙ্গে গেলাম।
‘ফিরোজ ভাই, এত উন্নতি, সভ্যতার বিকাশ…কেন? আমাদের উদ্দেশ্য কি? চূড়ান্তে গিয়ে কি করবো আমরা? জাফর ইকবাল তাঁর একটা সায়েন্স ফিকশনে এই প্রশ্ন রেখেছিলেন। মানবজাতির শেষ উদ্দেশ্য কি? জাফর ইকবাল উত্তর দিয়েছিলেন, বুদ্ধিমত্তাকে মহাবিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু আমি ঠিক তা মানতে পারছি না। আমার উদ্দেশ্য কি এই পৃথিবীতে?’
‘দেখো, তুমি আমাকে প্রথমে বল মানুষ মারা যায় কেন?’
‘বিভিন্ন কারণে? যেমন রোড অ্যাঙিডেন্টে, অসুস্থ হয়ে, হার্ট অ্যাটাক করে…আবার বেশি বয়সে অনেকে মারা যায়…’
‘বয়স হয়ে গেলে মানুষ কেন মারা যায়?’
‘শরীরের সমস্ত পার্টস ক্ষয়ে যায় দেখে?’
‘কিভাবে মারা যায়?’
‘শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষমতা কমে গেলেতো এমনিই মারা যাবে…।’
‘না, এমনি এমনি কেউ মারা যায় না। মানুষের বয়স হয়ে গেলে মারা যাবার আগে তার কোন একটা রোগ হয়, ফুসফুসে রোগ, ব্রেন ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক বা যে কোন সাধারণ একটা রোগ হয়।’
‘আচ্ছা! সবার ক্ষেত্রেই তাহলে মারা যাবার আগে একটা রোগ হয়?’
‘হ্যাঁ। অর্থাৎ সবগুলো মৃত্যুর পেছনে একটা কজ থাকে। দেখো, রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে কিন্তু কেউ হঠাৎ করে ভ্যানিশ হয়ে যায় না। একজন মানুষ সুনির্দিষ্ট কারণে মারা যায়।’
‘মানলাম। তারপর?’
‘তাহলে দেখো, সে জন্মগ্রহণ যখন করেছে দেখেইতো সে মারা যাচ্ছে! নাকি? যদি নাই জন্মাতো তবে কি মারা যাবার প্রশ্ন আসতো?’
‘নাহ্।’
‘সুতরাং, সে যখন একটা কজে মারা যাচ্ছে তবে তার জন্মেরও একটা কজ আছে! ভাবো। একটা কজে সে মরছে, আবার তার জন্মই হয়েছে মৃত্যুর জন্য, সুতরাং তার জন্মের পেছনেও একটা কজ আছে।’
‘আচ্ছা! কিন্তু কজটা কি?’
‘তোমার জন্মের উদ্দেশ্যটা কি সেটা বের করা তোমার দায়িত্ব।’
‘কিন্তু ফিরোজ ভাই, আপনার কথানুযায়ীতো ঈশ্বরকে মানতে হয়।’
‘তুমি গডকে স্বীকার কর না?’
‘আসলে…আসলে আমি ঠিক নিশ্চিত নই এ ব্যাপারে…।’ দ্ধিধায় পড়ে গেলাম।
‘তুমি যখন রাস্তা দিয়ে যাও তখন কেউ একজন তোমাকে বলে ডানে যাও, বামদিকে খেয়াল রাখো, ওখান দিয়ে গর্ত আছে, সাবধানে পাঁ ফেলো। কে বলে?’
‘কেন? আমার মস্তিষ্ক?’
‘মস্তিষ্ককে সব বলে দেওয়া আছে যে কোনটা করলে ভালো হবে, কোনটা করলে খারাপ হবে?’
‘আসলে এগুলো আমরা ছোটবেলা থেকে শিক্ষা পেয়েছি, আমরা যেভাবে শিক্ষা পেয়েছি সেভাবেই মস্তিষ্ক চালায়।’
‘তাহলে কে বলে?’ আমি একটু ভয় পেতে শুরু করলাম, ‘ঈশ্বর?’
‘না, তোমার ভেতরে আরেক জন আছে, সে!’
‘মানে?’
‘সক্রেটিস একটা কথা বলছিলেন, নো দাইসেলফ। তোমাকেও চেষ্টা করতে হবে নিজকে জানার। জানতে হবে কে তোমাকে ভালো-মন্দের ব্যাপারে শাসন করে।’
‘কিন্তু তাতে কি প্রমাণিত হয়?’
‘তাতে প্রমাণিত হয়, There is someone behind everything created!’
আমি মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলাম না।
*******
সন্ধ্যা।
তপন ভাই এলো। বললেন, বাইরে নাকি ভালোই গন্ডগোল চলছে। তপন ভাইয়ের সে কী কষ্ট হয়েছে বাসায় আসতে…একঘেঁয়ে মানুষ। শাওনের মাকে কল করলাম। শাওনের খবর জানতে চাইলাম। তিনিও জিজ্ঞেস করলেন আমার পড়াশোনা কেমন চলছে। কেমন জানি কৃত্রিম মনে হল তার গলা। জাস্ট কার্টিসি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। কারেন্ট চলে গেল। অন্ধকার। বারান্দায় বসে আছি। চেয়ার নিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে ।
কে আমি? আমি বিপ্লব। কিন্তু বিপ্লব কে? বিপ্লবের উদ্দেশ্য কি এই পৃথিবীতে? কি করবে সে? বিপ্লবের সর্বোচ্চ অর্জন কল্পনা করা যাক: ইন্টারে এ প্লাস পাবে, তারপর ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণে সুযোগ পাবে, তারপর প্রয়োজনে আরো হায়ার এডুকেশন নিয়ে ভালো একটা চাকরি করবে, বিপ্লব অ্যামেরিকা গিয়ে আরো ভালো কোন চাকরিও করতে পারে…তারপর? প্রতিষ্ঠা? নাম-যশ? অর্থ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি, বিত্ত, সম্মান…তারপর…সুন্দরী একটা বউ? তারপর? সন্তান? তারপর? সন্তানদের মানুষ করতে হবে? তারপর? সন্তানগুলো ছুটবে একই সার্কলে? তারপর? তারপর বিপ্লবের মৃত্যু? তারপর? তার শরীরের সমস্ত অণু-পরমাণু মিশে যাবে পৃথিবীর ধূলিকণায়? তবে? তবে কি উদ্দেশ্য তার? সেতো জানেই ভবিষ্যতে কি হবে…সে তো জানে তার শেষ পরিণতি কি…তবে তার জীবনের অর্থ কি, তাৎপর্য কি?
জানে সবাই, কিন্তু উপলব্ধি করে কয়জন?
কে আমি? কোথা থেকে এসেছি? আমার ধর্ম যা বলে তাই ভেদবাক্য? নাকি তোমার ধর্ম যা বলে তাই পরম সত্য? ধরা যাক, একটা গ্রহে দশজন মানুষ জন্মগ্রহণ করল দশটা ভিন্ন পরস্পরবিরোধী ধর্ম নিয়ে। তারা কি তাদের বিশ্বাসে অটল থাকবে? অবশ্যই না। প্রত্যেকটা মানুষেরই উচিত্ তাদের নিজের বিশ্বাস সত্য কি মিথ্যা তা যাচাই করা, অন্য ধর্ম সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা। কে উত্কৃষ্ট? সে যে সব জেনে সঠিক ধর্মটা বেছে নিয়েছে? নাকি সে, যে সঠিক ধর্মটা ভাগ্যক্রমে পেয়ে গিয়েছে (উত্তরাধিকারসূত্রে) এবং প্রশ্ন না করে সারাজীবন সে অনুযায়ী চলেছে? অথচ এই জায়গায় ইসলাম এও বলে, `বিশ্বাসই যথেষ্ট। অন্য কে কি বলল, তা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে! যে ব্যক্তি যাচাই-বাছাই ছাড়াও ইসলামে গভীর বিশ্বাস রেখেছে তার জন্য রয়েছে পুরষ্কার।’ কতবড় একটা ভুল ইসলাম ধর্মের!
দশজনের লোকের মধ্যে ভুল মতালম্বী লোকটা কিভাবে জানবে তার ধর্মের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু যদি না সে তার ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে? দশটা ধর্ম নিয়ে গবেষণা করার পর যদি ভুল ধর্মটা আমি বেছে নেই তবে ঈশ্বর কি আমাকে শাস্তি দিবেন? অথচ হায়! জন্মসূত্রে যে লোকটা সঠিক ধর্মের অনুসারী হল সে গবেষণা না করে শুধু অনুসরণ করার কারণেই পুরষ্কৃত হবে! এ কেমন বিচার? সে বলে এসেছে, অন্য মত নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই, আমি আমার মতে বিশ্বাস রাখি এবং ইসলামও বলছে, `এই যথেষ্ঠ’; কিন্তু এ সঠিক নয়! এ অন্যায়!
এই দশজন লোকের প্রত্যেকে যদি তাদের নিজস্ব বিশ্বাসে আমরণ পর্যন্ত অটল থাকে তবে আমি, এই মুমিন, মুত্তাকি, তাকওয়াবান এবং আল্লাহর বিশস্ত বান্দা হবার কারণে বেহেশতে যাবো (যাবো কিনা নিশ্চিত নই, আল্লাহর লীলা বোঝা ভার; তবে সাধারণ অর্থে বা বলতে পারি ইসলাম অনুযায়ী) আর বাকি বিধর্মী বিভ্রান্তদের দল জ্বলবে নরকের আগুনে (হয়তো ওদের মধ্যে ব্যতিক্রম কেউ কেউও যাবে বেহেশতে, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী)! অথচ সেই লোকদের কোন দোষ ছিল না (?)।
এই যুক্তির বিপক্ষ যুক্তি কি হতে পারে? আমার হিন্দু বন্ধু বনির দোষ কোথায়? সে তার ধর্মে গভীর বিশ্বাসী। তাকে অনেকভাবে বুঝিয়েছি, কিন্তু তার বিশ্বাসে সে অটল। অথচ আমি জানি সে বিভ্রান্ত। ইসলাম এও বলে, `তুমি সব ধর্ম নিয়ে যাছাই-বাছাই করে দেখ কোনটা শ্রেষ্ঠ, তারপর সিদ্ধান্ত নাও।’ কিন্তু পুরনো কথা, গবেষণা না করে শুধু বিশ্বাসও ইসলাম সাপোর্ট করে এবং সেটা যেন একটু বেশিই করে! আমি ইসলামের অনুসারী, কিন্তু এ ধর্মতো আমার বাবা-মা আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছ, আমি নিজে কি এই ধর্ম গ্রহণ করেছি? অবশ্যই না! আমি মুসলিম হলাম কিভাবে? আমিতো মেড-মুসলিম!
আমি যদি ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করি তবে আমি কিভাবে মুরতাদ হলাম? যদি আমি ভিন্ন ধর্ম হতে বা নিরপেক্ষ ধর্ম হতে ইসলাম গ্রহণ করে পুনরায় ইসলাম ত্যাগ করতাম তবেই না আমি মুরতাদ? সেই গ্রহের দশটা লোকতো জানতো না ছোটবেলায় কোন ধর্মটা সঠিক, তারা তাদের অভিভাবক কর্তৃক চাপানো ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে, বড় হয়ে তাদের কেউ একজন যদি দেখে তার ধর্মবিশ্বাস ভিত্তিহীন এবং সে যদি সেই ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম বেছে নেয় তবে সে কেন মুরতাদ হবে?
সেইতো প্রকৃত মুসলিম যে সব উপলব্ধি করে বলেছে, `এক আল্লাহ্ই শুধু সত্য’! যুক্তির নিরিখে আজ আমার কাছে এ পরিষ্কার যে, যেটা পরম সত্য ধর্ম সেটা অবশ্যই শুধু বিশ্বাসের ওপর অটল থাকতে বলবেনা, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে সব বিচার করেই সেই ধর্মের অনুসারী হবার কথা বলবে।
তবে সেই গ্রহের দশজন লোকের প্রত্যেকের কি উচিত্ না দশটা ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে সঠিক ধর্মটা বেছে নিয়ে সেই ধর্মটা গ্রহণ করা?
ভাবতে বসি আমি। আমার ধর্ম আমাকে বলে, বেশি ভাবলে বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা আছে! কিন্তু আমি যে বিভ্রান্ত নই তার নিশ্চয়তা কি? আমাকেতো সত্যকে জানতে হবে। আমি যে সেই গ্রহেরই একজন!
এক আল্লাহ্ সত্য। কার কাছে সত্য? তোমার কাছে? আমার কাছে? এই অন্ধবিশ্বাসের অর্থ কি? বোকা চুপ থাকে, জ্ঞাণী প্রশ্ন করে? নাকি জ্ঞাণী চুপ থাকে, বোকারা শোরগোল তোলে? কোথায় যাবো আমি? কি আমার উদ্দেশ্য? ডুব দিলাম অন্ধকারে। কিছুই দেখলাম না। শুধুই অন্ধকার। কিন্তু আমি জানতে চাই। আমি একজন ট্রাভেলার। আমি রহস্যভেদ করতে চাই। পৃথিবীর রহস্য। কি আমার তাৎপর্য? কি অর্থ আমার অস্তিত্বের? ঈশ্বরবিহীণ মানবঅস্তিত্ব তথা মানবসভ্যতার চূড়ান্ত ও পরম উদ্দেশ্য কি? প্রচন্ড হতাশার সাথে আবিষ্কার করলাম, কোন উদ্দেশ্যই নেই! ভাবনার গভীরে ডুব দিলাম; আমি যেন হাঁটা শুরু করেছি …অন্ধকারে..আলোর সন্ধানে…আরেক পৃথিবীতে। আমার দ্বিতীয় পৃথিবী।
ট্যাগঃ








দৌবারিক ১৯ নভেম্বর ২০০৮ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
অর্ধেক পড়লাম । বাকিটা পরে পড়ুম নে । এখন ছাদে যাইতেছি ফর
[জবাব]
দৌবারিক নভেম্বর ২০, ২০০৮ ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
পড়লাম ।
আরেকটা পোস্টে পড়েছিলাম আপনি শাহীন কলেজে পড়তেন । ওখানের ৩/৪জন ইংরেজি টিচারের নাম বলুন তো ? ওদের মধ্যে আপনার প্রিয় কেউ আছে কি ? কেন জিজ্ঞাসা করলাম তা পরে কমু ।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২০, ২০০৮ ১:৩৭ অপরাহ্ণ
নাহ্। আমি একাডেমিক লোক নই! শাহীন কলেজ আমার জীবনের একটা তিক্ত স্মৃতি। ফাস্ট ইয়ারেও যাও কয়েকদিন কলেজে গিয়েছি, সেকেন্ড ইয়ারে তেমন যেতামই না । ক্লাস টিচার মোস্তফা কামাল স্যারের কাছে ম্যাথ প্রাইভেট পড়তাম, সমস্যা হত না তেমন একটা!
ইংলিশ স্যার? না। তবে একজন ইংলিশ ম্যাডাম ছিলেন মনে পড়ে। তিনি আমার খুব প্রিয় ছিলেন। শাহীন কলেজে মানসী ম্যাডাম, সাইফুন্নবী স্যার, শাহজামাল স্যার, সোহানা ম্যাডাম কেউই আমার প্রিয় নয়। বরং উনারা আমার বিতৃষ্ণার উদ্রেকই করেছেন শুধু। আমাদের ইংরেজ ক্লাশ পেতেন দুইজন: একজন স্যার আর একজন ম্যাডাম। নাম মনে পড়ছে না। তবে ম্যাডাম আমার প্রিয় ছিলেন। ম্যাডাম আমাদের শুধু টেক্সট বই পড়তেই বলতেন না, পাশাপাশি ইংলিশ শিক্ষণীয় বইগুলোও পড়ার উপদেশ যেটা খুবই ভালো লাগতো আমার কাছে। আমাদের ইংলিশ কার্টুনগুলা দেখার কথা বলতেন মাঝে মাঝে; এই না হলে শিক্ষক!
ভালো থাইকেন দৌবারিক ভাই।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৩rd, ২০০৮ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গোস্তাফি মাফ নিয়েন দৌবারিক ভাই। ছাদে ক্যান গ্যাছিলেন এট্টু কইবেন কি? ক্যান ছাওয়াল রাখলাম পরে কমুনে। দরকার আছে। কুইক জওয়াব দ্যান, ইন্তেজার করতেছি।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৪, ২০০৮ ২:২৮ অপরাহ্ণ
ভাবছিলাম রাইতের আকাশের সৌন্দর্য দেখার লাইগ্যা গেছিলেন!
[জবাব]
দৌবারিক নভেম্বর ২৫, ২০০৮ ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
সিগারেট খাইতে গেছিলাম ।
দৌবারিক নভেম্বর ২৫, ২০০৮ ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
ছাদ ছাড়া আর কোথাও যাওয়া হয় না আমার । কত মাস হইয়া গেছে বাসা থেইক্যা বাইর হই না ।
ইকরাম ২০ নভেম্বর ২০০৮ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যাপক অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন পোস্ট ।
সবে তো জীবনের শুরু । এ বয়সে ভাবনাগুলাকে গুছিয়ে রাখার চেষ্টার দরকারও নাই তেমন একটা । হাঁটতে থাকুন । একসময় সবকিছু অর্থবহ মনে হবে । আবার সময়ে সময়ে অর্থহীনও মনে হতে পারে ।
মানুষের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো অর্থহীনতাকে অর্থবহ করা নয়, বরং সে প্রচেষ্টায়
মারা যাওয়া । জীবনে অর্থদানের ক্ষেত্রে একক মানুষের ভুমিকা শূণ্যের কাছাকাছি হয়ত । কিন্তু অসীম সময়ের পরে হয়ত কোনো অর্থবহ অর্থ আসবে, অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগুলা যোগ হতে হতে ।
ক্যালকুলাস, হেহ, ক্যালকুলাস ।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২০, ২০০৮ ১:৪৪ অপরাহ্ণ
ইন্টেগ্রেট কইরা ফালাইছি। আচানক ব্যাপার হইল ফাইবার কতা আছিল কনস্ট্যান্ট, পাইছি একখান ভেরিয়েবল, খালি চেইঞ্জ হয়া যাতি চায়…!
।
কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অনিশ্চয়তারে ভাই, অনিশ্চয়তা…!
দুর্দান্ত মন্তব্যের জন্য
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৩rd, ২০০৮ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইকরাম ভাই,
The Law of Uncertainity Rule নিয়ে যদি বিস্তারিত লিখতেন, খুশি হতাম। খুব প্রয়োজন।
[জবাব]
দৌবারিক নভেম্বর ২৫, ২০০৮ ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ
ইকরাম অনেকদিন ধইরা অনিয়মিত ।
[জবাব]
Necray ২১ নভেম্বর ২০০৮ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
ভুল বললেন। যাচাই-বাছাই করেই বিশ্বাস করতে হবে। আপনি পড়া-শুনা করে বিশ্বাস করে যে পুরস্কার পাবেন, অন্ধ-বিশ্বাস দিয়েও একই পুরস্কার পাবেন। কিন্তু যে পড়া-শুনা করে, সে বিভ্রান্ত হতে পারেনা। সে কুসংস্কারেও জড়াতে পারেনা। অন্ধ-বিশ্বাস নিয়ে কুসংস্কারের কবলে পড়ে আপনি আস্তে আস্তে ইসলামের মূল-তত্তকে distort করে ফেলবেন(বহু-বিবাহকে অধিক সওয়াবের কাজ আখ্যা দেয়া একটি শক্ত উদাহরন)। এর ফলে আপনার পূন্য হবে নাকি দোষ হবে, সেটি আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। এরপর হয়ত আপনি যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসের উপর গুরুত্ব আরোপ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন(যদিও এ বিষয় নিয়ে আমার সন্দেহ আছে)। সেটি যেহেতু এই পোষ্টের বিষয় না, তাই আর কথা বাড়ালামনা।
কাজরী আপার মত আমিও অন্য ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামাই না(যদিও তাসাঔফ করা উচিত)। সবাইকেই ভালবাসি। এমনকি mukto-mona.com সাইটে ধর্ম-নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে ইসলামের উপর মনের মাধুরি মিশিয়ে যে ঝাল ঝাড়ে, তাকেও সমান পরিমাণে ভালবাসি। পরকালে সবার জন্যই দোয়া করব ও মাফ চাইব।
আমি অবশ্য আমার লক্ষ্য পেয়ে গেছি। বেহেস্তে ঢোকার জন্য যথা-সাধ্য চেষ্টা করব। এরপর আল্লাহকে জগত সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। বিজ্ঞানের এই যুগে এরকম সরল ও হাস্যকর লক্ষ্য স্থির করা বেশ অযৌক্তিক, তা আমি স্বীকার করি। কিন্তু এই লক্ষ্য আমাকে সুখ দিচ্ছে এবং সেটিই সবচেয়ে বড় কথা, এক্ষেত্রে যুক্তি আমার কোন কাজে আসেনি। আশা করি আপনিও আপনার লক্ষ্য আমার মত সহজেই পেয়ে যাবেন।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৩rd, ২০০৮ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আপনার কথাই তুলে দিলাম।
মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।
আরেকটু বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা চালালে ভালো হত না? কি যুক্তি দিলেন এটা? তবে কি যে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে ইসলাম বর্জন করেছে সে বিভ্রান্ত নয়? আমি বুঝতে পারছি আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, কিন্তু কথাটা ঠিকভাবে বলতে পারেননি। আপনি বলতে চেয়েছেন, “ধর্মতত্ত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন হতে (+ ঈমানের সহিত, তাকওয়া রেখে?) পড়াশোনা করার ‘পর যে কেউ ইসলামকেই শ্রেষ্ঠ মানবে।”
শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর আমরণ নির্ভরশীল না হয়ে আল্লাহ্-তা’য়ালা কোন আয়াতের মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মগুলো নিয়ে গবেষণা ফরয করেছেন তা জানালে কৃতজ্ঞ থাকতাম, আমার জানার সীমাবদ্ধতা আন্তরিকভাবে স্বীকার করি।
প্রত্যেকের Deduction তাদের স্ব স্ব চিন্তাধারা, জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে লব্ধ উপলব্ধি এবং অর্জিত জ্ঞাণের Integration । এবার কিন্তু আবার প্যারাডক্স!
হায় বিভ্রান্ত নাস্তিক! বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর…।
[জবাব]
mohajagotik ২৩ নভেম্বর ২০০৮ ৯:২৫ অপরাহ্ণ
সালাম।
আপনার একটা আলোচানার সাথে অংশ নতি েনচিরে মতামত দয়িেছলিাম। উত্তর কোনো সাড়া পাইন।ি মুল্যবান কােনো মিথস্ক্রীয়া হত েপারে মন েকর েআবার দিলাম । আশা কর িউত্তর পাব।
========
ইবলিসকে দুনিয়াতে মুমিন ব্যািক্তদের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে পাঠানো হয়েছ। আর আখেরাতে হাশরের মাঠে মানুষ ও জ্বীনের বিচারকাজ শেষে মৃত্যুকেও ধ্বংস করে দেয়া হবে। ইবলিসও জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
অত্যন্ত ভালভাবে লক্ষ্য করা দরকার যে, ‘ইবলিস’ শব্দের প্রতিশব্দ ‘আল্লাহ’ -বিষয়টি এমন নয়। ‘ইবলিস’ শব্দের প্রতিশব্দ ‘মুমিন’ হতে পারে। ‘ইবলিস’ এবং ‘মুমিন’ উভয়েই ‘আল্লাহ তায়ালার’ সৃস্ট ‘মাখলুক’ বা সত্ত্বা। ‘আল্লাহ’ -একাই এক জাত। ‘আল্লাহ’ একাই এক ‘জাতের’। ঐ জাতের আর কোনো কিছু (সত্ত্বা) থাকা সম্ভব নয়।
আল্লাহ জগতে ‘ইবলিস’ আর ‘মুমিন’ দুই জাতের দুই মাখলুককে পরস্পরের শত্রু হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়ছেন। কেন পাঠিয়েছেন- সেটি ভিন্ন আলোচনা।
আরো বুঝে নেয়া দরকার যে, ইবলিস আল্লাহর ‘জাত’ বা সত্তাকে অস্বীকার করার কারণে ‘অভিশপ্ত’ হয় নাই। সে অভিশপ্ত হয়েছ। বস্তবাদীতা অনুশীলন করার কারণে। ইবলিস স্বয়ং জানে যে, তার নিজের সত্তা ‘আল্লাহর’ ইচ্ছার মুখােপক্ষী। এটা সে ‘অিভশপ্ত’ হওয়ার আগেও জানত এবং নিরবধি জানে ও স্বীকার করে। ‘আল্লাহর’ সাথে তার বিরোধের স্থানটি ভিন্ন…..
অতএব, ‘ইবলিস’ সত্তা বা ক্ষমতা কোনোদিক দিয়েই ‘আল্লাহ’ শব্দটির বপিরীত শব্দ নয়।
আল্লাহ আদমকে সৃস্টি করার পর যখন আযাযীলকে বললেন আদমকে সেজদা করতে, তখন আযাযীল তা করতে অস্বীকার করল এই যুক্তিতে যে, আদম মাটির তৈরী আর সে নিজে আগুনের তৈরী। আযাযীল ‘অভিশপ্ত’ হল….
এখানে সে অভিশপ্ত হল ‘আল্লাহ’ আস্বীকার করা বা আল্লাহর ক্ষমতায় অবিশ্বাস করার কারণে নয়। সে অভিশপ্ত হল তার ভ্রান্ত বস্তবাদী বিশ্বাসের কারণে। সে এই যুক্তিতে আদম কে সেজদা করতে চাইল না যে, আদম মািটর তৈরী অন্যপক্ষে সে নিজে আগুনের তৈরী। সে এই যুক্তি গ্রহণ করতে পারল না যে, আল্লাহ স্বয়ং যখন হুকুম করেছেন অতএব আদম নিশ্চয়ই আযাযীল অেপক্ষা উত্তম। সে যুক্তি খাড়া করল যে, ‘আগুন’ ‘মাটি’ অপেক্ষা উত্তম। তার গোয়াতৃুিম ও আত্মরম্ভিতা এটাই িছল যে, আগুন দহনশীল, উদ্ধগামী আর মাটি নরম ও নিম্নগামী। এভাবে বাহ্যদৃিস্টতে দেখাটাই তার কাছে বড় হয়ে দঁাড়াল ….. যেমনটি আমােদর আজকালকার বন্তবাদীদের দশা। (তাদের কাছে চোখের দেখাটাই সত্য)। এটাই ছিল ইবলিসের বস্তবাদী প্রকল্প। আল্লাহর হুকুমের শক্তিতে বিশ্বাস হারনোই তার ‘অভিশপ্ত’ হওয়ার কারণ। সে বুঝলো না মাটি দেখতে যেমনই হোক আর আগুন যত দাহ্যশক্তিগুণসম্পন্নই হোক আল্লাহ যখন হুকুম করেন তখন আগুন অেপক্ষা মাটি অবশ্যই শক্তিশালী। আর আজো তা প্রমাণিত হয়েই চলেছে। আগুন অেপক্ষা মাটিই শক্তিশালী। আগুন ব্যবহার করে আজ মাটির মানুষ সভ্যতা আর ভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলেছে।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৪, ২০০৮ ২:১৩ অপরাহ্ণ
ওয়া’লাইকুম আস্ সালাম, মহাজাগতিক ভাই। এট্টু ব্যস্ত আছি।
আমার ব্লগেতো আছেনই…সমস্যা কি? পরে সুস্থির হয়ে আপনাকে জবাব দিলাম। দুনিয়াবি পড়াশোনা নিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত প্রায়…! ব্লগে জীবন কাহানী দিয়া পড়িলাম এ কী বিপাকে…সবাই খালি প্রশ্ন করে। তাই ব্লগে আর লেখা দিবো না। লাইফটা স্থির হোক, তারপর বসবো।
ভালো থাকবেন।
[জবাব]
Necray ২৩ নভেম্বর ২০০৮ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
আমি বলতে চেয়েছি যে আমি যদি মনেপ্রাণে খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করি এবং কোন ধর্মের খোদা সত্য সেটি খুজতে চাই, তবে আমি ইসলামের দিকেই যাব। খোদার প্রতি বিস্বাস= ধ্রুবক। ধর্মের প্রতি বিস্বাস= বিষম। ইসলামের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারন কোরানে অনেক ইঙ্গিত আছে যা ১৪০০ বছর আগের এক মূর্খ ব্যক্তির জন্য জানা অসম্ভব। বইটি যেহেতু আমার হাতের কাছেই আছে, চাইলে আপনাকে আমি সেগুলো বলতে পারি।
আর কেউ যদি খোদার অস্তিত্ব বের করতে চায় তবে সে, ইসলামের ভাষায়, পথভ্রষ্ট হতেই পারে। বিষয়টি এত সহজ নয় যে দিন-রাত পড়াশুনা করার পর আপনি অবশ্যি সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন, আপনি যদি প্রেজুদিস নিয়ে পড়াশুনা করেন কোনভাবেই আপনি সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারবেননা।প্রেজুদিস না থাকা আর ঈমান কিংবা তাকওয়া থাকা কিন্তু এক না। অনেকেই আছে যে নাস্তিক হিসেবেই বড় হয়েছে কিন্তু পরে আস্তিক হয়েছে(John humphyrs এর In God We Doubt নামক গ্রন্থের শেষের দিকে এরকম একজনের কথা বলা আছে, তিনি এক আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) আবার অনেকেই আছে যে পড়াশুনা করে নাস্তিক হয়েছে।
আমার কোন আয়াত মুখস্থ নেই, তবে Tasawuf কিংবা sufism এর ব্যাপারে নিশ্চয় শুনেছেন? Sufism কে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে,” a science through which one can know how to travel into the presence of the Divine, purify one’s inner self from filth, and beautify it with a variety of praiseworthy traits.”।সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি খোদাকে নিয়ে পড়াশুনা ছাড়া আর কিছু নয়। “ফরয” হয়ত করা হয়নি কিন্তু Sufism কে কেউ হারাম প্রমাণ করতে পারেনি। কাট-মোল্লারাই মূলত এটিকে খারাপ চোখে দেখে।
আমারও জানার সীমাবদ্ধতা আছে এবং তা আপনার তুলনায় বেশি। আমি কোরান-হাদিসের বই না পড়ে সাধারণত নাস্তিকদের রচিত বই পড়তেই পছন্দ করি। সেখান থেকে তাদের জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আস্তিকদের বই থেকে বের করি এবং নিজে চিন্তা-ভাবনা করে বের করি। বুঝতেই পারছেন আমার জ্ঞানের-পরিধি। এই সীমিত জ্ঞান নিয়েও তর্ক করি এই কারণে যে একমাত্র এই উপায়েই আমি আমার বিশ্বাসের সত্যতা যাচাই করতে পারব।
আমার অভিজ্ঞতা সবসময়ই খোদার অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করে। আবার আমি নাস্তিকদের বই পড়ি(ঠিক পড়ি না, পড়া শুরু করেছি এবং ভালই লাগছে) কিন্তু কোন বইতে আমি ইসলাম সম্পর্কে লেখকের জ্ঞানের গন্ধটুকুও পাইনি। বড় হয়েছি মডারেট(শব্দটির কিন্তু অনেক ওজন আছে) আস্তিক পরিবেশে, বই পড়ি নাস্তিকদের- আমার মনে হয় আমার deduction নিরপেক্ষই আছে। তাই “যাচাই-বাছাই” করার অংশটুকু আমার মনে হয় আমি ঠিক ভাবেই করে যাচ্ছি।
[জবাব]
biplob নভেম্বর ২৪, ২০০৮ ২:২৪ অপরাহ্ণ
“ধর্মতত্ত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন হতে (+ ঈমানের সহিত, তাকওয়া রেখে?) পড়াশোনা করার পর যে কেউ ইসলামকেই শ্রেষ্ঠ মানবে।”
আপনি কি বলতে চেয়েছেন এই জায়গায় তাতো আমিই লিখেই দিয়েছি। তারপরও আবার আমার কথাটা পুনরাবৃত্তির কি প্রয়োজন ছিল? একই কথাইতো বললেন। কিছু মনে করবেন না, আপনি সহজ কথায় না এসে কথা একটু বেশি ঘোরাচ্ছেন।
“আমি বলতে চেয়েছি যে আমি যদি মনেপ্রাণে খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করি এবং কোন ধর্মের খোদা সত্য সেটি খুজতে চাই, তবে আমি ইসলামের দিকেই যাব।”
আমার কথাটা আর আপনার কথাটায় ফারাক কোথায়? ব্র্যাকেটে যা লিখলাম তাও কিন্তু পুনরাবৃত্তি করলেন পরের লাইনে। বললেন, মন প্রেজুডিসড্ হবার কথা। ইসলাম বর্জন করলেই ঈমানদার মুসলিম বলবে, মন প্রেজুডিসড্ ছিল। যার অন্তরে ইসলামের উপর প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়া আছে, সেতো পৃথিবীর সমস্ত ইভেন্ট সেভাবেই বিচার করবে। নাস্তিক বিচার করবে তার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী। আর নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন? নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন নিয়ে পড়াশোনা করলেতো ইসলামের দিকেই যে কেউ যাবে (সে মুসলিমের বিশ্বাস)।
কথা বাড়ালাম না আর..।
[জবাব]
biplob (লেখক) ২৪ নভেম্বর ২০০৮ ২:০০ অপরাহ্ণ
আমি তখনই যাচাই-বাছাই করবো যখন আমার মনে সন্দেহ দেখা দিবে এর সত্যতা সম্পর্কে।
`না,’ আমার বন্ধু যাকারিয়া উত্তর দিল, `আসলে ইসলামে আমার পূর্ণ বিশ্বাস অবশ্যই আছে, এবং বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা দেবার জন্যই আমি যাচাই-বাছাই করে যাচ্ছি আর সময়ের সাথে সাথে আমি দেখছি আসলে আমার ধর্মই সেরা, তবে কি এটা ভালো নয়?’
যুক্তিটা দেখেছেন? কিন্তু একটু ভাবুন, আসলে এটা একটা ভূঁয়া যুক্তি, এভাবে নানান প্যারাডক্স বাঁধে। যাচাই-বাছাইয়ের কোন প্রয়োজন নেই আলটিমেটলি…।
`এমন কি হতে পারে যাচাই-বাছাইয়ের এক পর্যায়ে তুমি দেখবে ইসলাম সঠিক নয়?’
`আমি বিশ্বাস করি কোনদিনই তা হবে না।’
`ধর কোনদিন আবিষ্কার করলা, সত্যি না, স্রেফ কল্পনা কর…।’
`আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, যে কোনদিনই আমি এমন কিছু পাবো না।’
`তাহলে যাচাই-বাছাই কেন?’
`বিশ্বাসের পরিপূর্ণতা দেবার জন্য…।’
১.
একটু ধৈর্য ধরেন! কমপক্ষে ৫ বা ৬ মাস। কোথাও ভর্তি হয়ে নিই। ক্রিটিকাল টাইম পার করছি এখন। সব স্থির হলে ডিটেইলস লিখবো। আগে এসব নিয়ে দিন-রাত পড়ে থাকতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি। আমার ব্লগে লেখাগুলা দিয়ে তাই একটু সমস্যায় পড়েছি।
তাতো অবশ্যই! মন্তব্য নিস্প্রয়োজন এক্ষেত্রে। তাহলে ধরে নিতে হচ্ছে পৃথিবীর সব ফাদার, পাদ্রী, বিশপ মনে-প্রাণে খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের বিশ্বাসে ফারাক আছে (এটা হল একজন মুসলিমের বিশ্বাস- প্যারাডক্স আবার!) ।
ঠিকই বলেছেন আপনি । আমার আগের একটা লেখায়ও একই কথা বলেছিলেন। এ সম্বন্ধে পরে লিখবো ডিটেইলস আপনাকে। মাত্র একটা পোস্টে এ নিয়ে লেখা যাবে না।
কোথায় পেয়েছেন এই সংজ্ঞাটা? জানালে কৃতজ্ঞ থাকতাম।
সুফীসম সম্বন্ধে সুন্দর তথ্য পাচ্ছি! `খোদাকে নিয়ে পড়াশোনা?’ আগ্রহ পাচ্ছি আমিও। আরেকটু ডিটেইলস জানান?
৬. “আমার অভিজ্ঞতা সবসময়ই খোদার অস্তিত্বের দিকে ইঙ্গিত করে।”
তার মানে আমার কথাটা স্বীকার করে নিলেন? ইকরাম ভাই নামে ব্লগে আরেকজন লিখেন। তার অভিজ্ঞতা তাঁকে খোদার অস্তিত্বহীনতার দিকে ঈঙ্গিত করে। কি বলবেন?
আল্লাহ-তায়ালা তাঁর অন্তরে সিলমোহর মেরে দিয়েছেন?
জ্ঞানের গন্ধ পাননি কেন বুঝলাম না…ইসলামের বিরুদ্ধ যুক্তি ইসলাম ছাড়া পড়াশোনা করে কিভাবে দেওয়া সম্ভব? আপনি বলতে পারেন, “কোন বইতে আমি ইসলাম সম্পর্কে লেখকের ন্যূনতম উপলব্ধিরও ছোঁয়া পাইনি, তারা শুধু স্রেফ যুক্তি-তর্কের বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছে ইসলামকে।”
“আল্লাহ-তা’য়ালাকে কে সৃষ্টি করলো” - টাইপের খেলো যুক্তি আমিও সমর্থন করি না।
আপনি কথা ঘুরিয়েছেন এই জায়গায়। “যদি প্রেজুডিস নিয়ে পড়াশোনা করেন তবে…” - এর মানে কি?
একটা ঠিকই বলেছেন, `বিষয়টি এত সহজ নয়!’, যেটা প্রায়ই সব ধর্মের ধার্মিক পন্ডিতরা বলে থাকেন,
অ্যাকচুয়াল্লি ঘুরে-ফিরে তাইরে নাইরে…
অথচ আমি যে প্রশ্নটা রেখেছি তার উত্তর আপনি দেন নি। “যাচাই-বাছাই” - এর ব্যাপারে শুধু কথা ঘুরাচ্ছেন। তাহলে আপনার জ্ঞাতার্থে বলছি,
[জবাব]
হিমেল ৭ ডিসেম্বর ২০০৮ ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তারপর বিপ্লবের খবর কি? ভর্তি-টর্তি কোথাও কি হওয়া গেলো? যাহোক, তোমার চিন্তাধারা ভালো লেগেছে। আমার চিন্তাধারাও প্রায় এমনই ছিল। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, যা সত্য তাই আমি গ্রহণ করব। জন্মগতভাবে পাওয়া কিছু অন্ধভাবে গ্রহণ করব না। আবেগতাড়িত হয়ে কিছু গ্রহণ করব না। সত্য যাই হোক, হোক তা নাস্তিকতা, হোক তা সমাজতন্ত্র, হোক তা হিন্দুইজম বা খ্রিস্টানিটি, কিংবা হোক তা ইসলাম; যা প্রমাণিত হবে, তাই আমি বিশ্বাস করব। জীবনের উদ্দেশ্য নিয়েও ছিল ব্যপক চিন্তা। অবশেষে যা পেয়েছি, তা একটু শেয়ার করি, কি বলো। প্রথমে ইসলামের ব্যপারে দুটো কথাঃ- ১) ইসলাম এ অন্ধভাবে বিশ্বাসের কথা বলা হয়নি। বরং প্রত্যেকের সামর্থ অনুযায়ী গভীর চিন্তা করে দেখতে বলা হয়েছে। যেমন- কুর্আনের বিভিন্ন আয়াত,- সূরা আলি ইমরানের ১৯০ নং আয়াত, সূরা রূমঃ২২, আল্গাশিয়াঃ১৭-২০, আত্ ত্বারিকঃ৫-৭, বাকারাঃ ১২৪ ইত্যাদি। এছাড়া আছে বিভিন্ন হাদিস ও আরো দলিল। জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও চিন্তা করে বুঝে বিশ্বাস স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এ কথার এভিডেন্স কিংবা ভিত্তি ব্যপকভাবে চাইলে পরে দেয়া যাবে।
২) ইসলাম-এ ডায়নামিক অনেক ব্যপার আছে, এবং একেক ব্যপার ও বিষয়ে প্রমাণিত একেক রকম চিন্তা প্রয়োগের ব্যপার আছে। পরে সময় পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।
এবার আসি আসল কথায়। আসলে ‘আমি কোত্থেকে পৃথিবীতে আসলাম’, ‘কেনো আসলাম’, আর শেষ পর্যন্ত ‘কোথায়ই বা যাবো’? -এই তিনটি প্রশ্ন বা সমস্যা হচ্ছে মানুষের জীবনের সবচাইতে বড় সমস্যা! এগুলোর সঠিক সমাধান জীবনের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য সঠিক চিন্তাধারা আমাদের প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক ভাবে আগাতে গেলে সমাধান পেতে সময় লাগতেই পারে। লাগুক সময়, কাটুক দিন, চলে যাক মাসের পর মাস। তবে যেখানে যেমন চিন্তা প্রযোজ্য, সেখানে তেমন চিন্তা প্রয়োগ করতে হবে। যেমন, একটু সহজে বলতে গেলে, বাইনারী (Binary) নাম্বার সিস্টেমে ১+১=১০, কিন্তু ডেসিমাল (Decimal)-এ ১+১=২। আর বাইনারীর জগতে ২ -এটি সেখানে অর্থহীন। আমরা চাইলে গায়ের জোরে বাইনারী জগতে ২,৩ বা যা খুশী বসিয়ে দিতে পারি, কিন্তু ০ আর ১ ছাড়া সবকিছুই যে সেখানে অর্থহীন। যেমন- আমি লক্ষ্য করেছি, স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আস্তিক এবং নাস্তিক, দুপক্ষরই আলোচনার ভিত্তিটা থাকে ভুল। প্রাধান্য পায় আবেগ (জানি মানুষ আবেগপ্রবণ), তারা আগে থেকেই কিছু বিষয় ধ্রুবক ধরে অগ্রসর হন। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নাকি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া, নাকি যৌক্তিক পদ্ধতি, কোন পদ্ধতিতে এই বিষয়ে চিন্তা করতে হবে, সেটি ঠিক না করেই হুট করে শুরু হয় আলোচনা। কোনটি প্রাধান্য পাবে, logic না reasoning, সেটিও দেখা হয় না। রক্ষা করা হয় না কোনো ধারাবাহিকতা। পরের আলোচনা আসে আগে, আগেরটা যায় পরে। তারপর আবার একে অপরকে ছুড়ে দেয় এমন সব মন্তব্য বা প্রশ্ন, যার Fallacy (Error in reasoning) বিবেচনায় আনা হয় না। অতঃপর কাউকে যে প্রশ্ন বা মন্তব্য করা হল, সেটি আদৌ কোনো সঠিক প্রশ্ন বা মন্তব্য কিনা, সেটি যাচাই না করে