সংবাদপত্রের বদলে যাওয়া পাঠকচিত্র এবং রুপার্ট মারডকের ভবিষ্যৎবাণী
লিখেছেন: পান্থ রহমান রেজা
বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাষ্ট ২০০৮ ৮:৪৫ অপরাহ্ণ৫ টি মন্তব্য
কয়েকদিন আগের ঘটনা। বন্ধু উজ্জ্বলের রুমে গেছি। সামনেই এমবিএ ফাইনাল। পরীক্ষা নিয়েই গপসপ হচ্ছে। হঠাৎ-ই উজ্জ্বল কি কাজে যেন কম্পিউটারে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমি রুমের চারদিকে তাকিয়ে পেপার খুঁজি। কোথাও নেই দিনের পেপারটি। উজ্জ্বলকে বললাম, পেপার কই রে। বন্ধু জানায়, নেট নেয়ার পর থেকে পেপার নেয়া বাদ দিয়েছি। সবই তো নেটে পাই। পয়সা খরচ করে আর পেপার নেয়ার কি দরকার। অথচ এই উজ্জ্বল একসময় কী’না দুটো পেপার রাখতো। প্রথম আলো রাখতো। আর ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এক্সট্রা হিসেবে রাখতো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আর শেয়ারবাজারের হালফিল জানতে। ইন্টারনেটের সংযোগ নিয়েই সে এখন অনলাইনে পেপার পড়ছে। জানছে সর্বশেষ খবর। শুধু উজ্জ্বলই নয়, বন্ধু আমিন ও পরিচিত আরো কয়েকজন এখন নেট সংযোগ নেয়ার পর প্রিন্টেড পেপার নেয়া বাদ দিয়েছে। ওই রাত্রেই আমাদের সূর্যসেন হলের হকার তাহের ভাই গেল মাসের পত্রিকার বিল নিতে এলেন। তখনই পত্রিকার বিক্রিবাট্টার কথাটা পাড়লাম। কেমন চলছে। তাহের ভাই জানালেন, হলে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার পর পত্রিকার বিক্রি একটু কমে গেছে। তারা সবাই ইন্টারনেটেই পেপার পড়ে এখন। আমি নিজেই একসময় রীতিমতো পেপার অ্যাডিক্টেড ছিলাম। ঘুম থেকে উঠে পেপারটা না পড়তে পারলে মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো। আর এখন অনলাইনেই পড়ে নিই, কিংবা ব্লগেও জেনে নিই টাটকা খবরের কথকতা। যদিও প্রথম দিকে কিঞ্চিত অস্বস্থি হতো হাতে নিয়ে পেপারটি না পড়তে পারায়। এখন সব সয়ে গেছে।
আসলে আমাদের চারপাশের যে লক্ষণ, তাতে কী মনে হয়, প্রিন্টেড পেপারের যুগ শেষ হচ্ছে। আসছে ডিজিটাল পেপারের যুগ! উত্তরটা দেবে ভাবীকাল। তবে মিডিয়া মোঘল রুপার্ট মারডক কিন্তু বলেই দিয়েছেন, হ্যাঁ, ডিজিটাল পেপারের যুগই আসছে। প্রিন্টেড পেপারের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে এই শতকেই। নির্দিষ্ট করে বললে, ২০৪০ সালের এপ্রিলে। বছর তিন আগে আমেরিকান সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে মারডক সাহেব এমনই ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। সাথে সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ভবিষ্যৎ মোকাবেলার।
মারডকের বাণী আমেরিকান সম্পাদকদের উদ্দেশ্যে হলেও ঘটনাটা আমাদের সংবাদপত্রের সাথেও জড়িত। ডিজিটালাইজেশনের যুগে আমাদেরও মোকাবিলা করতে হবে একই সমস্যা। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন আমাদের সম্পাদক ও প্রকাশকগণ। কারণ সামনে যে প্রজন্ম বড়ো হচ্ছে এবং হবে, তারা অধিকাংশ (শহরের বেড়ে উঠা প্রজন্ম) ইন্টারনেটের সঙ্গে সখ্যতা করেই বড়ো হচ্ছে। তারা যে সব কাজেই ইন্টারনেটের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তা বলাবাহুল্য। এখনই ভার্সিটিতে কোনো রেফারেন্সের দরকার পড়লে আমরা আগে যখন লাইব্রেরিতে দৌঁড়াতাম, সেখানে এখন দৌড়াই কম্পিউটার ল্যাবে- গুগল সার্চে। তবে এটা অবশ্য নির্ভর করছে, আমাদের ইন্টারনেট অ্যাকসেস হারের উপর।
আরেকটা ইস্যু আছে। বেশ বড়ো ইস্যুই। সেটা হলো প্রিন্টেড পেপারের প্রকাশনা ব্যয়। সংবাদপত্রের সাথে জড়িত অনেককেই বলতে শুনি, যে টাকায় পত্রিকা বিক্রি হয়, তা দিয়ে পত্রিকার খরচ উঠে না। খরচ উঠাতে বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এজন্য কখনো কখনো বিজ্ঞাপন ম্যানেজার পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের চেয়েও বড়ো হয়ে যান। তার নির্দেশেই পত্রিকার প্রাইম লোকেশনে ছাপা হয় কোনো কর্পোরেট হাউজের খবর। কিংবা গোপন করা হয় কর্পোরেট হাউজের দুর্নীতির খবর।
মনে করা হচ্ছে ভাবীকালের পাঠকরাও হবেন ইন্টারঅ্যাকটিভ (বর্তমানকালেই কি নয়?)। তারা সংবাদ পড়ার সাথে সাথে নিজেদের প্রতিক্রিয়াটাও জানাতে ইচ্ছুক হবেন। বিদেশের প্রথাগত পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে সংশ্লিষ্ট সংবাদটি পড়ে পাঠকের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে আমাদের কোনো পত্রিকায় এ ধরনের কোনো বিষয় চালু হয় নি (তবে নতুন প্রকাশিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনে এ অপশন রয়েছে।)। তাছাড়া কোনো পত্রিকাই চালু করেনি নিজস্ব ব্লগ। এসবই ভাবীকালের সংবাদপত্রের মুল হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
পাদটীকা: আমি আসলে আমাদের হলের ঘটনার প্রেক্ষিতে পত্রিকা পড়ার বদলে যাওয়া ধরন নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তা বলতে গিয়ে কিসব বলে ফেলেছি। জানি না, সব ঠিকঠাকমতো বলতে পেরেছি কী’না।
ট্যাগঃ










সুশান্ত ২৮ অগাষ্ট ২০০৮ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
লেখাটা সেই রম হইছে। অনেক ভালো লাগলো
পান্থ রহমান রেজা অগাষ্ট ২৮, ২০০৮ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পাঠক ব্লগারের ভালো লেগেছে জেনে লেখক ব্লগারেরো ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন।
মুকুল ২৮ অগাষ্ট ২০০৮ ৯:৫১ অপরাহ্ণ
লেখাটা ভালো হয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
পান্থ রহমান রেজা (লেখক) ২৮ অগাষ্ট ২০০৮ ১০:০০ অপরাহ্ণ
মুকুল ভাই, ধন্যবাদ আপনাকেও- পড়ার জন্য।
রাশেদ ২৯ অগাষ্ট ২০০৮ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভালো লাগছে লেখাটা।
দেশে গেলে পেপার পড়তে আরাম লাগে। যদিও জানি নেট থেকে আরো আপটুডেইট খবর পাওয়া যায়, তাও প্রিন্টেড পড়তে আরাম লাগে।